নগ্ন ছবি চাইছে ফেসবুক!

নগ্ন ছবি চাইছে ফেসবুক!

২৭ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডে ডেস্ক): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্রিটিশ ইউজারদের কাছে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয় ছবি পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিশোধমূলকভাবে একজন আরেকজনের নগ্ন ছবি পোস্ট করার ঘটনা রুখে দিতেই এই উদ্যোগ।

কারো ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা থাকলে সেক্ষেত্রে এটি কাজ করবে। কেননা অনলাইনে ওই ছবি প্রকাশিত হওয়ার আগেই তা ব্লক করে দেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

একই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের হয়রানিমূলক ছবি ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অস্ট্রেলিয়াতে এই প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করেছে। এখন তারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাতে এই পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে।

নিউজবিটকে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন ব্রিটেনের মানুষদের জন্য বিষয়টি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

কীভাবে এটি কাজ করবে?
যদি নিজের কোন ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে একজন ব্যবহারকারী উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে ফেসবুকের যে সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে বিচারের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ব্রিটেনে যেমন রিভেঞ্জ পর্ণ হেল্প-লাইনে এজন্য যোগাযোগ করা যাবে।

তখন সেখানকার কর্মীরা ফেসবুকের সাথে যোগাযোগ করবে এবং ব্যবহারকারীকে একটি লিঙ্ক পাঠানো হবে সেখানে ছবি আপলোডের জন্য।

কিন্তু এই নগ্ন ছবি কারা দেখতে পাবে?
ফেসবুকের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান অ্যান্টিগন ডেভিস নিউজবিটকে বলেন, এই ছবি দেখতে পাবে কেবলমাত্র পাঁচজন প্রশিক্ষিত রিভিউয়ার্স নিয়ে গড়া ক্ষুদ্র একটি দল।

তারা ছবিটিতে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংযোজন করবে। এরপর সেই কোডটি ডাটাবেজ-এ সংরক্ষণ করা হবে।

অন্য কোন ব্যক্তি যদি সেই একই ছবি কোনভাবে আপলোড করার চেষ্টা করে কোডটি তখন শনাক্ত করবে এবং সেটা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং মেসেঞ্জারে প্রকাশ হওয়ার আগেই আটকে দেবে।

সত্যিই কি এই পদ্ধতি কার্যকর হবে?
ফেসবুকের অ্যান্টিগন ডেভিস স্বীকার করেন যে, যখন ফটো-ম্যাচিং প্রযুক্তির বিষয় জড়িত তখন ১০০% নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না। কারণ ছবিকে বিকৃত করা সম্ভব তাই মূল ছবি থেকে সেগুলো আলাদা হতে পারে। কিন্তু তিনি বলছেন তারা ভালো ফল পাচ্ছে না।

পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করবে যদি যে ছবিটি নিয়ে দুশ্চিন্তা সেটি হাতে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কারো সাবেক প্রেমিক/প্রেমিকা ফোনে ছবি তুলে থাকেন এবং সেগুলো যদি তার কাছে না থাকে তাহলে এই প্রক্রিয়া তাকে কোনো কাজে দেবে না।

২০১৫ সালে চালুর পর থেকে ব্রিটেনের রিভেঞ্জ পর্ণ হেল্প-লাইন বছর বছর এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার রিপোর্ট দেখতে পেয়েছে।

চালুর পর ২০১৫ সালে এই হটলাইনে এ ধরনের পাঁচশোর বেশি রিপোর্ট পেয়েছে। আর ২০১৭ সালে এ ধরনের রিপোর্ট এসেছে ১০০০-এর বেশি।

সোশাল মিডিয়াতে ফটো শেয়ার : ‘বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের ঝুঁকিতে ফেলছেন’
ব্রিটেনের শীর্ষ ব্যাংক বার্কলেজ সাবধান করেছে, সোশাল মিডিয়াতে বাচ্চাদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে ভবিষ্যতে তারা পরিচয়-চুরিসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারে।

বার্কলেজ বলছে, বাচ্চাদের ছবি এবং নানা তথ্য সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করে বাবা-মায়েরা অজান্তে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে দিচ্ছেন।

ব্যাংকটি হিসাব দিচ্ছে – এর ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ ব্রিটেনে অনলাইনে ৬৭ কোটি পাউন্ডের জালিয়াতি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশাল মিডিয়া মানুষের পরিচয় চুরিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

বার্কলেজ ব্যাংক বলছে – ‘বাবা-মায়েরা বুঝতেই পারছেন না যে ভবিষ্যতে তারা তাদের সন্তানদের জালিয়াতি চক্রের টার্গেট করে ফেলছেন, কারণ এসব ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে রয়ে যায়।’

পরিচয় চুরি
সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় বাচ্চাদের নাম, বয়স, জন্মতারিখ, বাড়ির ঠিকানা, জন্মের স্থান, মায়ের নাম, স্কুলের নাম, পোষা বিড়াল কুকুরের নাম, প্রিয় ফুটবল ক্লাবের নাম এবং ছবি হরহামেশা পোস্ট করা হচ্ছে।

বার্কলেজ সাবধান করছে, এসব বাচ্চারা যখন বড় হবে তখনও তাদের এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে রয়ে যাবে।

সাইবার অপরাধীরা এসব তথ্য দিয়ে ব্যাংক ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিসহ অনলাইনে কেনাকাটায় ব্যবহার করতে পারে।

বার্কলেজ আশঙ্কা করছে, আগামী দশকের শেষ নাগাদ অনলাইনে পরিচয় চুরির ৭৪ লাখ ঘটনা ঘটবে এবং সেগুলোর ৭৫ শতাংশের কারণ হবে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এসব তথ্য এবং ছবি।

বার্কলেজ ব্যাংকের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জোডি গিলবার্ট বলছেন, ‘সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে অন্যের পরিচয় চুরির এমন সুযোগ জালিয়াতরা আগে কখনো পায়নি।’

মিজ গিলবার্টের কথা -‘কোনো তথ্য এবং ছবি পোস্ট করার আগে দুবার ভাবুন, এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত নজর রাখুন আপনার পোস্টগুলো যেন ভুল হাতে চলে না যায়।’

সূত্র: বিবিসি

Share Button
Previous জামদানি সিনেমায় মিলনের বিপরীতে সিবা আলী
Next বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্টের রুল

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply