• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০১৮
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মে, ২০১৮

ওয়াটসন-তাণ্ডবে স্বপ্নভঙ্গ সাকিবদের

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]

২৮ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডে ডেস্ক): একটা সময় যার দল পাওয়াই অনিশ্চিত ছিল, সেই শেন ওয়াটসন একাই একাদশ আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসকে চ্যাম্পিয়ন করলেন। ৫৭ বলে অপরাজিত ১১৭ রান-ওয়াটসনের এই বিধ্বংসী ইনিংসের জন্য কোনো প্রশংসাই যেন যথেষ্ট নয়।

নির্বাসিত থাকায় দু’বছর আইপিএলে খেলতে পারেনি সিএসকে। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে একাদশ আইপিএলে কামব্যাক করেই চেন্নাই বুঝিয়ে দিলো, তারাই ‘সেরা’। ন’বারের মধ্যে সাতবার ফাইনাল খেলে তিনিবার (২০১০, ২০১১, ২০১৮) খেতাব জিতল চেন্নাই। স্বাভাবিক নিয়মেই ফাইনালের সেরা হলেন শেন ওয়াটসন।

রোববার জয়ের জন্য ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোর ছিল ৫.২ ওভারে মাত্র ২৩ রান। তার মধ্যে আবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের নায়ক ফাফ ডু’প্লেসি ১০ রানে সন্দীপ শর্মার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ডাগ-আউটে ফিরে গিয়েছিলেন। ব্যাটে-বলে ঠিকমতো কানেক্ট করতে পারছিলেন না ওয়াটসনও। ক্রমশই মাথা চাড়া দিচ্ছিল আস্কিং রেট। টেনশনে ছটফট করছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।

প্রথম ওভারে ওয়াটসনকে দাঁড় করিয়ে রেখে পেসার ভুবনেশ্বর কুমার কোনো রান দেননি। তিন ওভারে মাত্র ৯ রান দেন তিনি। আর প্রথম রান পেতে ওয়াটসনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দু’ওভার। তখন মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চে মহেন্দ্র সিং ধোনির তৃতীয়বার আইপিএল জেতার স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে।কিন্তু ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। আর টি-২০ ফরম্যাটে কোনো কিছুই যেন অসম্ভব নয়। যে ব্যাটসম্যানটির একটা রান করতে গিয়ে কালঘাম-ছুটে গিয়েছিল, সেই কিনা ম্যাচের নায়ক হয়ে সমর্থকদের কাঁধে চেপে মাঠ ছাড়লেন। ৩৩ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়াটসন। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াটসন ও সুরেশ রায়না ১১৭ রান যোগ করে চেন্নাইয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেন। রায়না ২৪ বলে ৩২ রান করেন। কিন্তু ওয়াটসন একচুল জমি ছাড়েননি। ৫১ বলে তিনি শতরান পূর্ণ করেন। এবারের টুর্নামেন্টে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আইপিলে ওয়াটসনের শতরানের সংখ্যা দাঁড়াল চার। ১১টি বাউন্ডারি ও ৮টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন অম্বাতি রায়াডু। ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের কড়ি জোগাড় করে নেয় সিএসকে।

ভুবনেশ্বর কুমার প্রথম তিন ওভার অনবদ্য বোলিং করার পরেও ওয়াটসন-ঝড় থামাতে কেন তাকে কেন উইলিয়ামসন ব্যবহার করলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রশিদ খান স্ট্রাইক বোলার। প্রথম দু’ওভারে তিনি ১২ রান দিয়েছিলেন। রশিদের দু’ওভার বাকি থাকা সত্বেও উইলিয়ামসন সন্দীপ শর্মা, কার্লোস ব্রেথওয়েটের ওপর ভরসা রেখে দলকে ডুবিয়েছেন। একাদশ আইপিএলে চেন্নাইয়ের কাছে এই নিয়ে চারবার হারল হায়দরাবাদ।

টসে জিতে ধোনি প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সানরাইজার্সের শুরুটা ভালো হয়নি। ঋদ্ধিমান সাহার চোট থাকায় শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। শুরুটা একটু সাবধানেই করতে চেয়েছিলেন সানরাইজার্সের দুই ওপেনার। কিন্তু নিজের ভুল শ্রীবৎস ৫ করে রান আউট হন।

প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে কেন উইলিয়ামসন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বড় রান খাড়া করার মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। তারা যোগ করেন ৫১ রান। এবারের আইপিএলে বেশ কয়েকটি ম্যাচে এই জুটি দারুণভাবে সফল হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, একাদশ আইপিএলের ফাইনালেও তারা বড় চমক দিতে যাচ্ছেন। যদিও উইকেটে সেট হয়ে গিয়েও শিখর ধাওয়ান ২৬ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হন। সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে কানেক্ট করতে না পারাতেই আউট হন ধাওয়ান।
কেন উইলিয়ামসন যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের রানের গতি সচল ছিল। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসানও প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন। পর পর কয়েকটি বাউন্ডারিও আসে তার ব্যাট থেকে। ১১ ওভারে সানরাইজার্সের স্কোর একশোর গণ্ডি টপকে গিয়েছিল। বাকি ন’ওভারে রানের গতি আরও একটু বাড়িয়ে দু’শোর কাছাকাছি স্কোর খাড়া করার সুযোগ ছিল হায়দরাবাদের সামনে। ঠিক তখনই কেন উইলিয়ামসন স্টেপ আউট করে করণ শর্মাকে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন ৪৭ রানে। তার ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি চার ও দু’টি ছক্কা।

গোটা টুর্নামেন্টে হাতে গোনা কয়েকটা ম্যাচে ভালো খেললেও ফাইনালে ইউসুফ পাঠান কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা পূরণে অনেকটাই সফল। প্রথম থেকেই ব্যাটে-বলে বেশ ভালো সংযোগ ঘটাচ্ছিলেন তিনি। চেন্নাই সুপার কিংসের বোলাররা যখনই মাথা তোলার চেষ্টা করেছে, তখন সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ইউসুফ পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন। যার ফলে একটা সময় মনে হয়েছিল সানরাইজার্সের স্কোর দু’শোর কাছে পৌঁছে যাবে। ডোয়েন ব্র্যাভো এদিন ৪ ওভারে ৪৬ রান দিলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাকিবের উইকেট তুলে নিয়ে দলকে স্বস্তি দিয়েছেন। সাকিব ১৫ বলে করেন ২৩ রান।

দীপক হুদা তিন রান করেই মাঠ ছাড়েন। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রেথওয়েট ১১ বলে তিনটি ছক্কার সাহায্যে ২১ রান করলেও অনেকগুলি ডট বল খেলেছেন। ইউসুফ পাঠান যদি ২৫ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস না খেলতেন তাহলে আরও বিপাকে পড়ত হায়দরাবাদ। ইউসুফ পাঠান অতীতে রাজস্থান রয়্যালস, কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি হায়ে আইপিএল জিতেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ, ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

শেষ দু’ওভারে চেন্নাই লুঙ্গি এনগিডি ও শার্দুল ঠাকুর অনবদ্য বোলিং করে মাত্র ১৮ রান দেন। চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে নজর কেড়েছেন এনগিডি। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন এনগিডি। একটি মেডেন ওভারও করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার।

Atiq

Share Button
[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন