মুসলিমদের সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিচ্ছেন সালাহ

মুসলিমদের সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিচ্ছেন সালাহ

৩০ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): বর্তমান বিশ্ব ফুটবলাকাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলা নক্ষত্রের নাম মোহাম্মদ সালাহ। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে সার্জিও রামোসের ভয়াবহ ট্যাকলে আঘাত পেয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মূলত তাই হচ্ছে খবর।

তবে সালাহকে নিয়ে আলোচনা এতেই গণ্ডিবদ্ধ থাকছে না। বেরিয়ে আসছে নানা বিস্ময়কর তথ্য। এবার জানা গেল, গ্রেট ব্রিটেনে মুসলিম বিদ্বেষ কমিয়ে দিয়েছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড।

সালাহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। স্বাভাবিকভাবেই ইসলাম ধর্মচর্চায় তার জুড়ি মেলা ভার। সুযোগ পেলেই ধর্মীয় আচারাদি পালনে মশগুল হয়ে পড়েন। গোল করার পর মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেজদাহে অবনত হন, দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। খেলা শুরুর আগেও দোয়া করেন। যেখানে যান সঙ্গে রাখেন পবিত্র কোরআন।

এবারের মৌসুমটা দারুণ কেটেছে এ নিবেদিত মুসলিমের। ৪৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৬টি। সঙ্গত কারণে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। তার বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ সহস্র অমুসলিম। যারা কেবল তার জন্যই এখন মুসলমান হতে রাজি। প্রিয় এই খেলোয়াড়ের সঙ্গে মসজিদে পর্যন্ত যেতে চান তারা।

কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, গ্রেট ব্রিটেনের মুসলিম বিদ্বেষ কমিয়ে এনেছেন সালাহ।

বিবিসির সাংবাদিক রাবিয়া লিমবাদা সালাহর একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি বলেন, আমার সন্তানদের কাছে সালাহ এখন রোল মডেল। তার খেলা, মাঠে দুই হাত তুলে মোনাজাত করা, দাড়ি- সব কিছুই ওদের একজন মুসলিম হিসেবে গর্বিত করছে।

তার ভাষ্য, ব্রিটেনে মুসলিমদের সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিচ্ছেন সালাহ। কিছু দিন আগেই এখানে ইসলামিক ঐতিহ্য প্রদর্শন করতে দুবার ভাবতে হতো। তবে এখন আর ভাবতে হয় না। দীর্ঘদিন পর আমরা এমন একজনকে পেয়েছি, যিনি প্রতিনিয়ত সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন। খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশটিতে ইসলাম ধর্মের আচার পালনে অন্য রকম আবহ তৈরি করেছেন মিসরীয় কিং। এখন সেসব পালনে আর ভয় লাগে না। এখানকার বিভিন্ন সম্প্রদায়কে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার কিছু বন্ধু লিভারপুলের পাড়-সমর্থক। তবে তারা মুসলিম নন। তারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন। তাদের মতে, সালাহর উত্থানের গুরুত্ব এখানেই, যিনি সংকীর্ণ মানসিকতার লোকদের চিন্তাভাবনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

রাবিয়া বলেন, সালাহ আমার সন্তানদের জন্য এবং তাদের মতো অন্যদের জন্যও অনেক বড় অনুপ্রেরণা।

Share Button
Previous মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ৮ কোটি ছাড়িয়েছে
Next চোখের পাতা কাঁপা মানে বিপদের লক্ষণ না

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply