শিশুদের হাতে স্মার্টফোন কতটা নিরাপদ?

শিশুদের হাতে স্মার্টফোন কতটা নিরাপদ?

কেয়া তালুকদার : একটি বাড়ীতে গিয়ে দেখি, মা শিশুকে হাতে ফোন দিয়ে খাওয়াচ্ছে ৷ শিশুটি গেম খেলছে, আর খাচ্ছে ৷ এতে মায়েরা খুব সহজেই তাকে খাওয়ানোর দায়িত্বটা পালন করতে পারছেন ৷ শিশু কান্নাকাটি করলে তার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে মা অন্য কাজে ব্যস্ত ৷ সেদিন গাড়ীতে বসে দেখছি, মায়ের কাছে শিশুটি ফোন চাইছে খেলার জন্য ৷ মা দিলো না বলে কান্না করছে ৷ পড়াশুনার অবসরেও শিশুর হাতে ফোন ৷ রাস্তাঘাটে, পার্কে বসে, রেষ্টুরেন্টে বসে, গাড়ীতে বসেও একই অবস্থা ৷ এভাবে শিশুগুলো মোবাইলে এ্যাপস্ গুলোর সাথে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে এবং বিপদজনক সাইটেও ঢুকে পড়ছে ৷ সেদিন এক বাড়ীতে গিয়ে দেখি, এক শিশু স্মার্ট টিভির রিমোট টিপতে গিয়ে পর্ণ ভিডিও সামনে চলে এসেছে ৷ এগুলো বড়দের সামনে হয়তো তারা খুলবে না ৷ কিন্তু অন্য সময় কৌতুহলবশতঃ ঢুকে পড়বে ৷ শিশুদেরও এখন জন্মের পর থেকে বাবা মা আদর করে ফেসবুক আইডি খুলে দেন ৷ একটু বুঝার বয়স হলেই সে সেই আইডির মালিক হয়ে যাচ্ছে ৷ পড়াশুনার ক্ষতি সহ মানসিক বিকাশেও বাধাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে ৷ বিভিন্ন বিকৃত ছবি দেখে তারা অপরাধ প্রবণতায় ঝুঁকে পড়ছে ৷ বিকৃত মানসিকতা তৈরী হচ্ছে ৷ আগে শিশুরা খোলা মাঠে খেলতো ৷ এখন তার উপায় নেই ৷ ফলে শিশুদের ঘরের মধ্যে মোবাইল আর টিভি বিনোদনের মাধ্যম হয়ে গেছে ৷ আগের যুগে তো মোবাইল ছিলোনা, তখন কি শিশুরা মানুষ হতোনা ? আমরা মায়েরা এখন শিশুকে বড় করে তোলাতে মোবাইলে আসক্ত করে তুলছি ৷ এতে তার গণ্ডিটা সেখানেই আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে ৷ শিশুর বিনোদনের জন্য তাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যান ৷ বাবা-মা তাকে সময় দিন ৷ বাবারাও শিশুকে লালন পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুন ৷ তাহলে মাও কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন ৷ শিশুদের শিশুতোষ বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন ৷ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে শিশুকে নিয়োজিত করেন ৷ শিশুর সুষ্ঠ বিকাশ দরকার ৷ শুধু শারীরিক বিকাশ নয়, সেই সাথে দরকার শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ৷ যাতে সে একজন ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে পারে ৷ স্মার্ট ফোন মানুষকে শুধু স্মার্টই করেনা আনস্মার্টও করে দেয় ৷

Share Button
Previous এবার বাসের ধাক্কার শিকার স্বরাষ্টমন্ত্রীর গাড়ি
Next ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply