• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০১৮
সর্বশেষ আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০১৮

সিলেট টেস্টে লজ্জার হার

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]
Bangladesh's Mushfiqur Rahim, right, and teammate Mominul Haque celebrate a boundary shot during the first day of their first test cricket match against Sri Lanka in Chittagong, Bangladesh, Wednesday, Jan. 31, 2018. (AP Photo/A.M. Ahad)

সিলেটের অভিষেক ভেন্যু স্বাগতিকদের জন্য সম্মানজনক স্মৃতি হওয়ার বদলে তাদের লজ্জাজনক ব্যর্থতার সাক্ষী হয়ে রইলো। এখানকার প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো সফরকারীরা।

৩২১ রানের লক্ষ্যে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে জেতাটা স্বাগতিকদের কাছে ছিলো চ্যালেঞ্জিং। পরিসংখ্যানও বিপক্ষে ছিলো বাংলাদেশের। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ২৩ টেস্টের মাত্র তিনটিতে জিতেছে স্বাগতিকরা। সার্বিকভাবে টেস্টেও শেষ ইনিংসে তাড়া করে জয়ের নজিরও বিরল। আর প্রথম এই টেস্ট জিততে হলে বাংলাদেশকে আগের তিনটি রান তাড়া করার রেকর্ডকেও পেছনে ফেলতে হতো। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ইতিবাচক মানসিকতার অভাবে লজ্জার হারই সঙ্গী হলো মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর।

তৃতীয় দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ২৬ রান তোলার পর আলোক স্বল্পতায় খেলা শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট আগে। চতুর্থ দিন তাই খেলা শুরু হয় আধা ঘণ্টা আগে। ওপেনার জুটিতে অনায়াসেই স্কোর বোর্ডে জমা হয় ৫৬ রান।

কাইল জার্ভিসের ২০তম ওভারের শেষ বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন ইমরুল। সুবর্ণ এই সুযোগ লুফে নিতে পারেননি স্লিপের ফিল্ডাররা। মাসাকাদজা ও টেলরের ফাঁক গলে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। পরে সিকান্দার রাজার স্পিনই সর্বনাশ ডাকে বাংলাদেশের। তিনি অবশেষে আঘাত হানেন এই জুটিতে। তার বলে পুল করতে গিয়ে পরাস্ত হন লিটন। বল গিয়ে লাগে সরাসরি উরুতে। সিকান্দার রাজা আপিল করলে অনফিল্ড আম্পায়ার নট আউটের সিদ্ধান্ত দেন। জোরালো এই আবেদনে পরে রিভিউ নেয় জিম্বাবুয়ে। তখন সাজঘরের পথই ধরতে হয় ২৩ রান করা লিটন দাসকে।

এই ইনিংসেও ব্যর্থ ছিলেন মুমিনুল। এবার কাইল জার্ভিসের বাড়তি বাউন্সে ভারসাম্য রাখতে না পারায় বল ভেতরের কোনায় লেগে আঘাত করে স্টাম্প। আগের ম্যাচে ১১ রানের পর এই ম্যাচে ফিরলেন ৯ রানে।

ওপেনার ইমরুল কায়েস হাফসেঞ্চুরির কাছেই ছিলেন একটা সময়। ৪৩ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যান আচমকা প্যাডল সুইপ করে গিয়েছিলেন লেগ স্টাম্প ফাঁকা রেখে। সিকান্দার রাজার ঘূর্ণি বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে।

মাহমুদউল্লাহর অস্থিরতায় এক প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন কোন শট খেলবেন সিকান্দার রাজার বলে। সুইপ করবেন নাকি আত্মরক্ষা তা বুঝে ওঠার আগেই বল গ্লাভস ছুয়ে চলে যায় শর্ট লেগে থাকা মিডফিল্ডারের হাতে। আগের বলটিও পরাস্ত হয়েছিলেন রাজার ঘূর্ণিতে। একইভাবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থেকে করতে যান লেট কাট। যার ফলটা পেলেন পরের বলে। মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেন ১৬ রানে।

প্রথম সেশনের আর এক বল বাকি থাকতে তর সয়নি নাজমুলের। অধিনায়কের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ব্রেন্ডন মাভুতার শর্টার লেন্থের লাফিয়ে ওঠা ঘূর্ণি বলটাতে লুজ শট খেলেন। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা তার ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করলেন না। নাজমুল ফেরেন ১৩ রান করে।

এরপর পুরোপুরি মনোযোগ রাখতে না পারায় চাপের কাছেই নতি স্বীকার করেছেন মুশফিক। প্রিয় স্লগ সুইপ খেলতে গেলেও ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি ঠিকমতো। মাভুতার বাড়তি বাউন্সের স্পিন খেলতে গেলে টপ এজ হয়ে ধরা পড়েন ওয়েলিংটন মাসাকাদজার হাতে। তাতে ৪৪ বল খেলা মুশফিকের ইনিংসটি সামিল হয় উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে। সেই মিছিলে এরপর যোগ দেন নতুন নামা মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর লেজ ঝরে পড়তে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। ওয়েলিংটনের বলে তাইজুল পরের ওভারে মাভুতার বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন নাজমুল ইসলাম। অপর প্রান্তে উল্টো লম্বা শট খেলার দিকেই যেন মনোযোগী থাকেন আরিফুল। যার ফলে ৩৮ রানে ওয়েলিংটনের বলে ধরা পড়েন তিনি রেগিস চাকাভার হাতে।

জিম্বাবুয়ের স্পিনার ব্রেন্ডন মাভুতা ১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৪১ রান দিয়ে তিনটি নেন সিকান্দার রাজা, দুটি নিয়েছেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। ম্যাচসেরা হয়েছেন শন উইলিয়ামস।

জিম্বাবুয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮২ (শন উইলিয়ামস ৮৮, তাইজুল ৬/১০৮) ও ১৮১ (মাসাকাদজা ৪৮, তাইজুল ৫/৬২)

বাংলাদেশ প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৪৩ (আরিফুল ৪১*) ও ১৬৯ (ইমরুল ৪৩, আরিফুল ৩৮)।

Share Button
[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন