সরকার গোয়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না : ঐক্যফ্রন্টের সভায় বক্তারা

সরকার গোয়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না : ঐক্যফ্রন্টের সভায় বক্তারা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্যই নিজেদের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু জোর করে নির্বাচন করা যাবে না। আর সরকার যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, তা তাদের পতনেরই নির্দেশক।

আজ মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন।

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অধিকার আছে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়ার। কিন্তু তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই সরকারের কবর হবে। বিএনপিকর্মীরা গুলি খাবে, মারা যাবে, কিন্তু আপস করবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিনা বিচারে মানুষ মারা থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ করে চলেছে এই সরকার। উন্নয়নের কারণে সরকারের কানে পানি জমেছে, দুর্নীতির কারণে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয়েছে। যার কারণে সরকারের কানে আমাদের কথা পৌঁছায় না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, দেশের প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী দু:শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা সংলাপে বলেছি, জোর করে নির্বাচন করা যাবে না।

জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির নুর হোসেন কাশেমী বলেন, এই সরকারের পতন না ঘটানো পর্যন্ত ঘরে ফেরা ঠিক হবে না।

বিজেপি সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সুলতান মনসুর এসেছেন, আসম আবদুর রব এসেছেন, ড. কামাল হোসেন এসেছেন, কাদের সিদ্দিকী এসেছেন। আর কে বাকী থাকল? আর কয়েকজন এলে তো আওয়ামী লীগেরই আর কেউ থাকবে না।

জনসভায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা আ স ম আবদুর রব। আরও বক্তব দেন ঐক্য ফ্রন্টে সদ্য যোগ দেওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রমুখ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোনো সরকার যখন জনগণকে ভয় পায়, শাসকরা যখন অত্যাচার শুরু করে তখন বুঝতে হবে বিরোধীদের বিজয় সুনিশ্চিত। যে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে, আন্দোলনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে তারা রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকায় প্রবেশের ব্রিজগুলোতে আটকে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও লাখ লাখ লোক সমাবেশে এসেছেন।

Share Button
Previous সিলেট টেস্টে লজ্জার হার
Next টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply