টঙ্গীতে তাবলিগের দুই গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ : আহত শতাধিক

টঙ্গীতে তাবলিগের দুই গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ : আহত শতাধিক

রাজধানীর আশকোনায় তাবলীগ জামায়াতের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা বিমানবন্দর এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে ধাওয়া-পল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপক্ষ অপরপক্ষকে ঠেকাতে বিমানবন্দর সড়কের উভয়পাশে অবস্থান নেয়ায় ওই রাস্তার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের উত্তরা, হাউজ বিল্ডিং, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত এলাকা তীব্র যানজট। উপায় না পেয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যান।
জানা গেছে, তাবলীগের প্রধান নেতা মাওলানা সা’দ সমর্থক ও তার বিরোধী পক্ষ তৃণমূল তাবলীগের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার প্রবীর কুমার দাশ জানান, আজ ভোর থেকেই আশকোনা এলাকায় মারমুখী অবস্থান নেয় তাবলিগ জামায়াতের দুই গ্রুপ। উত্তরার আবদুল্লাহ পুরে অবস্থান নেয় আরেক পক্ষ। সংঘর্ষের পর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। তারা সড়কে অবস্থান নেয়ায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, শুনেছি টঙ্গিতে তাদের জোড় অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু এখানে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে ভোর বেলায় ঠেকাতে গিয়েই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ডিএমপির উত্তরা জোনের ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার (এসি) জুলফিকার জুয়েল বলেন, রাজধানীর অদূরে টঙ্গিতে জোর অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ফের বিবাদে জড়িয়েছে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপ। এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে ঠেকাতে শনিবার ভোর থেকে উত্তরার বিমানবন্দর সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের ফোর্সরা কাজ করছেন। তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তাবলিগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু। গত বিশ্ব ইজতেমার সময়ও এ নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এরপর গত এপ্রিল মাসে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

সাদ সমর্থক ও বিরোধী এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৫ই নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলীগ জামায়াতের বিবদমান দুই পক্ষ, পুলিশের আইজি, ধর্ম সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়।
তখন থেকেই মূলত দুই গ্রুপের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজ তারা মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং দু পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ বাধে।

Share Button
Previous গাঙচিল লেখিকা পরিষদ-এর প্রথম সাহিত্য সভা
Next সিএমএইচ থেকে বাসায় এরশাদ

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply